প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

আইপিইএমআইএসের তথ্য

প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা
শিক্ষকতা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের আগ্রহ বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে এ কথা।

আইপিইএমআইএস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রতিষ্ঠান। ইউনিসেফ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে করা আইপিইএমআইএসের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটারবিজ্ঞানের পাশাপাশি এমফিল-পিএইচডিগ্রিধারীরা পেশা হিসেবে প্রাথমিকের শিক্ষকতায় যুক্ত হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও এ পেশায় আছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন কামিল পাস ৫৭৪১ জন, ফাজিল পাস ১৮৯৭ জন, আলিম পাস ১২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।

আইপিইএমআইএসের সর্বশেষ (২৮ অক্টোবর) তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক এখন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন শিক্ষক স্নাতক (পাস)। এইচএসসি পাস করা শিক্ষক আছেন ৪২ হাজার ২৪২ জন। স্নাতক (সম্মান) পাস করা ২০ হাজার ৯৬৯ জন প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন। এ ছাড়া বিএসএস ১৩ হাজার ১৪৯ জন, এসএসসি পাস ৮ হাজার ৫৬৩ জন, এমবিএ ডিগ্রির ৭ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন ডিগ্রিধারীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন। তাঁদের মধ্যে কামিল পাস ৫ হাজার ৭৪১ জন, ফাজিল পাস করা ১ হাজার ৮৯৭ জন, আলিম পাস এক হাজার ২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।

প্রকৌশল, কৃষি, আইন ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়ুয়ারাও শিক্ষক রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করা শিক্ষক ১ হাজার ৬১৭ জন, বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচারের ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচারের ৪৯ জন শিক্ষক আছেন। আইন বিষয়ে এলএলএম পড়ুয়া ৩৮৬ জন ও এলএলবির ৩১৬ জন শিক্ষকতা করছেন। এমএড ৩৬৭ জন, বিএড (অনার্স) ২৮৭ জন এবং বিএড ২৫৮ জন শিক্ষক রয়েছেন।

ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষক ৪৩৮ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন ও এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন, বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৪২ জন এবং বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন।

শিক্ষক বেশি ৩৬ থেকে ৪৫ বছরের বয়সী

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬০ জন। আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক ২৪ হাজার ৫৮৭ জন।

নারী শিক্ষক পুরুষের দ্বিগুণ

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা পুরুষ শিক্ষকের তুলনায় দ্বিগুণ। ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন নারী শিক্ষকতা করছেন। পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৪ জন। শতকরা হিসাবে নারী শিক্ষক ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর পুরুষ ৩৩ দশমিক শূন্য ৯৮ শতাংশ।

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

সূত্র: প্রথম আলো · শিক্ষা