বাড়ির কয়েকটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রের সঠিক সেটিং বদলেই বিদ্যুতের বিল সরাসরি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এমন কিছু সহজ এবং কার্যকর উপায় রয়েছে, যেগুলি বাড়ির ফ্রিজ ও ইনভার্টারে প্রয়োগ করলে মাসের বিদ্যুতের বিল থেকে অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারেন।
গরম হোক বা শীত, যে কোনও মরসুমেই বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাড়ির কিছু নির্দিষ্ট যন্ত্র এমন রয়েছে, যেগুলির কারণে বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই বেশি হয়। ফলে বাড়ে বিদ্যুতের বিলও। গরমের দিনে যখন AC, ফ্রিজ এবং ইনভার্টার দিন-রাত চলতে থাকে, তখন মিটারও বেশ দ্রুত ঘুরতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, বিদ্যুতের খরচ কমাতে হলে হয় দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্র বদলাতে হবে, নয়তো নিজের আরামের সঙ্গে আপস করতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ: ফ্রিজের তাপমাত্রা খুব বেশি ঠাণ্ডায় (যেমন সবচেয়ে উচ্চ লেভেলে) না রেখে মাঝারি বা সঠিক লেভেলে রাখুন।
- দরজা কম খোলা: বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা থেকে বিরত থাকুন, এতে ভেতরের ঠাণ্ডা বাতাস বের হয়ে কম্প্রেসারের বেশি কাজ করতে হয়।
- ফাঁকা জায়গা রাখা: ফ্রিজের দেয়ালে বা চারপাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ফ্রিজ গরম না হয়।
- গরম খাবার না রাখা: কোনো গরম খাবার বা তরল সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না, আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে দিন।
- নিয়মিত পরিষ্কার করা: ফ্রিজের পেছনের কয়েল ও ভেতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
- ইনভার্টার প্রযুক্তি: ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ ব্যবহার করলে সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল গুরুত্বপূর্ণ: বাড়িতে থাকা ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এমন একটি যন্ত্র, যা তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। বেশিরভাগ মানুষ হয় ফ্রিজের কুলিং সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে রাখেন, অথবা মরসুম বদলে গেলেও ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে ভুলে যান। গরমের সময়ে ফ্রিজের তাপমাত্রা মাঝারি অর্থাৎ ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা উপযুক্ত। শীতকালে এটি কিছুটা কমানো যেতে পারে।
অনেকেই ফ্রিজ দেওয়ালের একেবারে গায়ে লাগিয়ে রাখেন। এর ফলে পিছনে থাকা কয়েলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে না। এতে কম্প্রেসরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বিদ্যুতের বিল দ্রুত বাড়তে পারে। ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা এবং ভিতরে গরম খাবার রেখে দেওয়ার কারণেও কম্প্রেসরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই ফ্রিজ সবসময় দেওয়াল থেকে কিছুটা দূরে, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। প্রয়োজন ছাড়া ফ্রিজের দরজা খুলবেন না এবং থার্মোস্টেটের সঠিক সেটিংয়ের দিকেও বিশেষ নজর রাখুন।
ইনভার্টারের ব্যাটারি ও লোড ম্যানেজমেন্টে বাঁচবে বিদ্যুৎ: বাড়ির ইনভার্টার এবং তার ব্যাটারিও বিদ্যুতের বিল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। ইনভার্টারের ব্যাটারি পুরনো হয়ে গেলে এবং তাতে ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা কমে গেলে সেটি চার্জ হতে অনেক বেশি সময় নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চার্জ হওয়ার অর্থ হল মিটারও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ খরচ করছে, ফলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে। এছাড়া অনেকেই বাড়ির মেইন ওয়্যারিং এবং ইনভার্টার ইনস্টল করার সময় লোডের সঠিক হিসাব করেন না।
এর ফলে পাওয়ার লিকেজ এবং ব্যাটারি ওভারচার্জিংয়ের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সময় সময় ব্যাটারির জলের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত এবং নিশ্চিত করতে হবে যে চার্জিং সম্পূর্ণ হওয়ার পর ইনভার্টার অটো-কাট মোডে চলে যাচ্ছে। ইনভার্টারের সঙ্গে যুক্ত এমন যন্ত্রগুলি বন্ধ রাখুন, যেগুলি সেই সময়ে প্রয়োজন নেই। কারণ ছোট কোনও লোডও সারা মাসে বিদ্যুতের ইউনিট বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফ্রিজ খোলা মানে বিদ্যুৎ অপচয়। বরফ ভাঙতে দরজা খোলা রাখবেন না। আমরা অনেক সময় বরফ ভাঙতে বা জিনিস খুঁজতে গিয়ে ফ্রিজের দরজা খোলা রাখি ।
কিন্তু জানেন কি? ফ্রিজ যতক্ষণ খোলা থাকে, তত বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। এর ফলে —
– বিদ্যুৎ বিল বাড়ে
– ফ্রিজের কম্প্রেসর দ্রুত নষ্ট হয়
– পরিবেশে কার্বন নিঃসরণও বেড়ে যায়
চলুন আজ থেকেই সচেতন হই –
– ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে খোলা রাখবেন না
– বরফ গলাতে সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করুন
– বিদ্যুৎ ও পরিবেশ দুটোই বাঁচান ![]()
ফ্রিজ এবং ইনভার্টারের সঠিক সেটিংয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাসও বিদ্যুতের বিল কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঘরের পাখা, কুলার বা টিভির সুইচ অন রেখে দেওয়া হয়। আবার ফোন ও ল্যাপটপ পুরোপুরি চার্জ হয়ে যাওয়ার পরেও চার্জার বোর্ডে প্লাগ ইন করা থাকে। একে ‘ফ্যান্টম লোড’ বলা হয়।
বাড়ির পুরনো এবং প্রচলিত বাল্বের পরিবর্তে LED লাইট ব্যবহার করা শুরু করুন। কারণ এগুলি কম বিদ্যুৎ খরচ করে বেশি আলো দিতে পারে। এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে যদি দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ করে নিতে পারেন, তাহলে পরের মাসেই বিদ্যুতের বিল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।





