দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত ঋণের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলার রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।
ইআরডির কার্যপত্র অনুযায়ী, এডিবির ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর)-এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে।
ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় ঋণটিকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনুমোদিত ২০ কোটি ডলারের ঋণের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর ফলে কারিগরি লোকসান বা সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।
এই ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আগের বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় কিছুটা কম।
আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলারের সংস্থান করবে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।