রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

বিপর্যয়ের মুখে সিলেটের প্রকৃতি: প্রয়োজন দায়িত্বশীল পর্যটন


সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সবুজ পাহাড়, স্বচ্ছ জলের প্রবাহ, পাথর বিছানো ঝরনা, বিস্তীর্ণ হাওর আর চা-বাগানের এক অনন্য ক্যানভাস আমাদের সিলেট। ‘প্রকৃতির কন্যা’ খ্যাত এই অঞ্চলটি প্রতিবছরই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবসের আলোয় দাঁড়িয়ে যদি সিলেটের পর্যটন খাতের ব্যবচ্ছেদ করা হয়, তবে একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—অনুপম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত দূরদর্শিতার অভাব, অপরিকল্পিত বাণিজ্যিকীকরণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এই খাতের পূর্ণ বিকাশ এখনো আটকে আছে।

সিলেটের পর্যটন মূলত প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক—এই দুই ধারার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নগরীতে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার শরিফ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষের চিরন্তন গন্তব্য। অন্যদিকে নগরীর বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জাফলং, গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি, রাতারগুল জলজ বন, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর, কানাইঘাটের লোভাছড়া কিংবা জৈন্তাপুরের প্রত্ননিদর্শন। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও ঝরনার পূর্ণতা এবং শীতে হাওর ও চা-বাগানের শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের বারবার এখানে টেনে আনে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ চা-বাগানের দৃশ্যপট, স্থানীয় খাসিয়া-মনিপুরিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা এবং লোকসংগীত সিলেটের পর্যটন অভিজ্ঞতায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সিলেটের পর্যটনকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে এখন একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। সিলেটকে দু-একটি নির্দিষ্ট স্পটে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন সার্কিট হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে একজন দর্শনার্থী একই সফরে পাহাড়, হাওর, চা-বাগান ও ধর্মীয় ইতিহাস উপভোগ করতে পারেন। একই সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্দিষ্ট স্পটে দৈনিক পর্যটক প্রবেশের সীমা নির্ধারণ করা এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন। সিলেটের এই সম্ভাবনাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে স্থানীয় তরুণদের গাইড, আবাসন ও লোকজ পণ্যের বিপণনে প্রশিক্ষিত করে যুক্ত করতে হবে, যাতে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রবাসীদের আকর্ষণ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ডিজিটাল প্রচারণার উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবসে সিলেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং প্রকৃতির মৌলিক রূপ অক্ষুণ্ণ রাখা। প্রকৃতি রক্ষা পেলে পর্যটন শিল্পও টিকবে। আর তাই পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই সিলেটের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});