
মৌলভীবাজারে তিন জেলের মৃত্যু
জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন জেলে। পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায় বুধবার রাতের আঁধারে বাড়ি ছেড়েছিলেন তারা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস একদিন পরই তারা ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। বজ্রপাতে প্রাণ হারানো তিন জেলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামালপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতরা হলেন রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের দুই ছেলে হামিদ মিয়া (৫০) ও কাবিল মিয়া (৪৫) এবং একই গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে ছাবির মিয়া (৪২)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে তিনজন বরশি দিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাকালুকি হাওরের বাঘমারা এলাকায় যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মাছ ধরার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহগুলো নিজ গ্রামে পৌঁছালে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহতদের স্বজনরা বলেন,সংসারের হাল ধরতেই তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আর জীবিত ফিরে আসেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাদের পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আক্কাস বলেন,এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কঠিন। দরিদ্র এই মানুষগুলো মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। জীবিকার সন্ধানে গিয়ে তারা প্রাণ হারালেন।
আরেক বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন,একসঙ্গে তিনটি পরিবার আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
কামালপুর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন,বজ্রপাতে নিহত তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।