শুক্রবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে হারুনের ভরসা ছোট্ট মুদি দোকান


সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছোট্ট একটি পুরনো টিনের ঘরের এক কোণে কাঠের চৌকি। তার ওপর সারি করে রাখা অল্প কিছু চানাচুর, কেক, বিস্কুটসহ নানা ধরনের মুদি পণ্য। টিনের বেড়াতেও ঝুলছে কয়েকটি প্যাকেট। পাশে তিন-চারটি প্লাস্টিকের চেয়ার। কাঠের একটি টেবিলে রাখা ফ্লাস্ক, কয়েকটি কাপ ও চায়ের পাতা।

সব মিলিয়ে দোকানটিতে হয়তো আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার পণ্য। এই ছোট দোকানটিই ২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী হারুনের ভরসা। দোকান থেকে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সেই আয় এবং সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় বাবা-মা ও এক ভাগনিকে নিয়ে চারজনের সংসার চলে।

হারুনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী চরে। কয়েক বছর আগে প্রমত্তা যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে তাদের বাপ-দাদার বাড়ি। এখন অন্যের জায়গায় টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন তাঁরা। নিজের বলতে কোনো জায়গা-জমি নেই।

সম্প্রতি হারুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি নদীর পাশেই ছিল। বছর খানেক আগে নদীতে ভেঙে গেছে। এরপর অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকছি। নিজের জায়গা-জমি কিছুই নেই।’

ছোটবেলায় স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন হারুন। নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কারণে এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। দুই বোনের একজনের বিয়ে হয়েছে গ্রামেই। অন্যজন ঢাকায় থাকেন এবং চাকরি করেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে ছোট দোকানটিতে বসেন হারুন। দিন শেষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো আয় হয়। দোকানের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন বৃদ্ধ বাবা সাত্তার শেখ।

হারুন বলেন, ‘দোকানের আয় আর তিন মাস পরপর ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।’

সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় বিয়ে করেছিলেন হারুন। কিন্তু অভাবের সংসারে এক বছরও টেকেনি সেই সম্পর্ক। এক বছর পর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান।

পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ বাবার দিকে তাকিয়ে হারুন বলেন, ‘বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের কষ্ট দেখলে ভালো লাগে না।’

সরকারের কাছে নিজের জন্য কোনো চাওয়া আছে কি না জানতে চাইলে নিজের কথা না বলে চরের মানুষের দুর্ভোগের কথা বলেন হারুন। তাঁর ভাষায়, ‘চরের মানুষের অনেক কষ্ট। নদীভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি চলে গেছে। মানুষের সমস্যাগুলো সরকার খোঁজ নিয়ে সমাধান করলেই আমি খুশি।’

প্রমত্তা যমুনা হারুনের বাড়ি কেড়ে নিয়েছে। থেমে গেছে পড়াশোনা, টেকেনি সংসার। এখন অন্যের জায়গায় দাঁড় করানো ছোট্ট টিনের ঘর আর কয়েক হাজার টাকার মুদি পণ্য সাজানো দোকানটিই তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

যমুনার পাড়ে সেই ছোট্ট দোকানে বসে প্রতিদিন ক্রেতার অপেক্ষা করেন হারুন। কেউ এলে হয়তো কয়েক টাকার বিস্কুট, চানাচুর কিংবা এক কাপ চা বিক্রি হবে। আর সেই বিক্রির টাকাতেই চলবে তাঁর পরিবারের আরেকটি দিন।

শুধু প্রতিবন্ধী হারুন নন, যমুনার চরাঞ্চলের অনেক মানুষই প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজ্জামেল হক বকুল।

চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});