তপ্ত গ্রীষ্মের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে ইদানীং বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ওয়াটার পার্ক। ঢাকার খুব কাছেই গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু চমৎকার ওয়াটার রিসোর্ট ও পার্ক।
আসুন জেনে নেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনদের নিয়ে মেতে ওঠার মতো ঢাকার কাছাকাছি কয়েকটি ওয়াটার পার্কের বিস্তারিত…
ওয়াটার কিংডম (Water Kingdom)
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্সের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এই ‘ওয়াটার কিংডম’। প্রায় ৩০টিরও বেশি রোমাঞ্চকর রাইড নিয়ে এটি ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম ও জনপ্রিয় ওয়াটার পার্ক। এখানে রয়েছে থ্রিলিং ওয়াটার স্লাইড, বিশাল স্প্ল্যাশ পুল, লাইভ ডিজে শো, ড্যান্স জোন এবং সুস্বাদু খাবারের রেস্তোরাঁ।
বর্তমানে পার্কটি শুক্র-শনি ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা এবং রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ফ্যান্টাসি কিংডমের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসেই টিকিট কেনা যায়। এছাড়া কম্বো টিকিট কিনলে ফ্যান্টাসি ও ওয়াটার কিংডম দুই পার্টই উপভোগ করা যায়। যারা রাতে থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল ‘রিসোর্ট অ্যাটলান্টিস’।
ঠিকানা: ফ্যান্টাসি কিংডম, ঢাকা–আশুলিয়া হাইওয়ে, আশুলিয়া, ঢাকা। ইমেইল: [email protected]
মানা বে ওয়াটার পার্ক (Mana Bay Water Park)
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া (বাউশিয়া এলাকা) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ‘মানা বে’। এটি দেশের প্রথম প্রিমিয়াম এবং দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম থিম ও ওয়াটার পার্ক। প্রায় ৬০ হাজার স্কয়ার মিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ১৭টি রাইড। যার মধ্যে ওয়াটার স্লাইড ট্যুর, কৃত্রিম ওয়েভ পুল ও ফ্লোর রাইডার ডাবল অন্যতম। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা কিডস জোন এবং একটি শান্ত কৃত্রিম নদী (Lazy River)।
এখানে একটি প্রবেশ টিকিটের মূল্যেই ভেতরের সবকটি রাইড অন্তর্ভুক্ত থাকে, ফলে আলাদা করে টিকিট কাটার ঝামেলা নেই। পার্কটি শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটিতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা এবং রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ঠিকানা: বাউশিয়া, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা। ইমেইল: [email protected]
নন্দন পার্ক (Nandan Park)
পারিবারিক বিনোদনের জন্য সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা হাইওয়ের বারইপাড়ায় অবস্থিত ‘নন্দন পার্ক’ বেশ সুপরিচিত। এর মূল পার্কের ড্রাই রাইডসের পাশাপাশি এর ‘ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’ বেশ আকর্ষণীয়। ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে রয়েছে কৃত্রিম ঢেউয়ের ওয়েভ পুল, ফ্যামিলি কার্ভ টিউব স্লাইড, ওয়েভ রানার, ডুম স্লাইড এবং মাল্টি প্লে জোন।
এছাড়াও নন্দন পার্কে রয়েছে দেশের প্রথম ৫ডি সিনেমা থিয়েটার, আইসল্যান্ড (তুষার প্রকোষ্ঠ) ও মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেনসহ ২৮টিরও বেশি রাইড। পার্কটি সপ্তাহের ৭ দিনই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবে এখানে বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়। করপোরেট ইভেন্ট বা পিকনিকের জন্যও এটি বেশ উপযুক্ত।
ঠিকানা: বারোইপাড়া, নবীনগর–চন্দ্রা হাইওয়ে, সাভার, ঢাকা। ইমেইল: [email protected]
আনোয়ার সিটি ম্যাজিক আইল্যান্ড (Anowar City Magic Island)
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে কেরাণীগঞ্জের কোনাখোলায় গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন এই বিনোদন কেন্দ্রটি। আনোয়ার সিটি গ্রুপের এই ম্যাজিক আইল্যান্ডে রয়েছে আকর্ষণীয় ১২টি রাইডসহ দেশের অন্যতম বড় ওয়েভ পুল। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি পুল, স্লাইড পুল, লেজি রিভার এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বেবি পুল। ওয়াটার পার্কের পাশাপাশি এখানে থিম পার্ক, ডাইনোসর পার্ক, চিড়িয়াখানা ও উন্নত মানের রেস্তোরাঁ রয়েছে।
ঠিকানা: কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন, কোনাখোলা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। ইমেইল: [email protected]
ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park)
নরসিংদীর পাঁচদোনার চৈতাবাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে প্রায় ৬০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত ‘ড্রিম হলিডে পার্ক’। ঢাকার কাছাকাছি অন্যতম এক ছাদের নিচে সব বিনোদনের জায়গা এটি। এখানে রয়েছে চমৎকার ওয়াটার পার্ক, বাম্পার কার, স্পিডবোট, সোয়ান বোট, জেট ফাইটার এবং ক্যাবল কারের মতো চমৎকার সব রাইড।
পার্কটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বর্তমানে প্রবেশ মূল্য বড়দের জন্য ৩৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫০ টাকা। এছাড়া ৪ জনের ফ্যামিলি প্যাকেজ পাওয়া যাচ্ছে ৪,৫০০ টাকায়। পিকনিক স্পট হিসেবে এটি দারুণ জনপ্রিয়; এখানে মায়াবী, মধুরিমা, মালঞ্চ, গাঙচিলসহ ৬টি সুসজ্জিত পিকনিক স্পট ও রাত্রিযাপনের জন্য এসি বাংলোর সুবিধা রয়েছে।
ঠিকানা: চৈতাবা, পাঁচদোনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, নরসিংদী।
টিপস: ওয়াটার পার্কে যাওয়ার সময় নিজেদের সঙ্গে অতিরিক্ত এক সেট সুতি বা নাইলনের আরামদায়ক পোশাক, তোয়ালে এবং ওয়াটারপ্রুফ মোবাইল পাউচ নিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বেশিরভাগ পার্কে পোশাক ভাড়ার সুবিধা থাকলেও নিজস্ব পোশাক ব্যবহার করাই স্বাস্থ্যসম্মত।