রংপুরের ১১৫টি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র ১৪টির তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। তিনটি অফিসের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্যের কার্যক্রম পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। সোমবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা, প্রতিপাদ্যে রংপুর জেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় টিআইবি রংপুর অফিসের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আলমগীর কবির সরকারি অফিসগুলোর ওয়েবসাইট হালনাগাদ পরিস্থিতির তথ্যচিত্র তুলে ধরেন।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ৩৩টি অফিসের ওয়েবসাইটে ৮৬ শতাংশ, ৩২টিতে ৭১ শতাংশ, ২২টিতে ৫৭ শতাংশ এবং ১২টিতে ৫০ শতাংশ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়েবসাইটে নোটিশ বোর্ড হালনাগাদের হার ছিল ৬৮ শতাংশ। চলতি বছর তা ১৫ শতাংশ কমে ৫১ শতাংশ হয়েছে। খবর প্রকাশ ও হালনাগাদের হারও ২২ শতাংশ থেকে কমে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া কর্মকর্তাদের পুরোনো তথ্য অনেক ওয়েবসাইটে এখনো রয়ে গেছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকায় ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাও উল্লেখ নেই।
আলমগীর কবির বলেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে তথ্যের ঘাটতি ও অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য এ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের সব তথ্য জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতা ও অপব্যবহারের কারণে অপতথ্যের বিস্তার বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে এখনো সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ অবগত নয়। তাই আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অফিসগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। গত নয় মাসে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য চেয়ে ২৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. শাহজাহান আলী, সনাক রংপুরের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলরুবা জামান, সিদ্দিকুর রহমান ও রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।###২৮-০৯-২০২৬
সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী
রংপুর…০১৭১৬৫৪৪১৬৭