রেকর্ড কম জনসমর্থনের মধ্যেই ভোটের মাঠে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ৩২ দিনের প্রচার শুরু করেছেন তিনি। তবে, ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতি নিয়ে তার নীতির প্রভাব এবার নির্বাচনে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসি থেকে টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গিয়ে পরপর দুটি সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। টেক্সাসের ডেন্টনে প্রথম সমাবেশে তার প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করেন তিনি।
সরকার পরিচালনা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের প্রশাসনের কাজকে তিনি খুব ভালো বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জন্য গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারকে দায়ী করেন তিনি।
তবে, আগামী তিন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেও নির্বাচন হবে।
রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারান, তাহলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নির্বাচনে অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ন্যাশনাল ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপকে ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন না।
এছাড়া, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক খাবার ও জ্বালানির খরচ মেটানো নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষের।
এমন পরিস্থিতিতেও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কৌশলের মূল জায়গায় নিজেকে রেখেছেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে ভোটারদের তার প্রশাসনের কাজ বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গত বৃহস্পতিবারের সমাবেশেও নিজের শুল্কনীতির প্রশংসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, এ নীতির কারণে উৎপাদন খাতে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে, তার শুল্কনীতি নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের বেশি উঠে রেকর্ড গড়ে।
তবে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং এর সঙ্গে জ্বালানির দামও দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
এদিকে, টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচার করেন ট্রাম্প। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোরও সমালোচনা করেন তিনি।
পাশাপাশি অভিবাসন, ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার ও ডেটা সেন্টারের প্রসার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। টেক্সাস ও ওকলাহোমার পর আলাবামা, ওহাইও ও নেব্রাস্কায়ও নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সূত্র: আল-জাজিরা