অধিক পরিমাণ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘আলো সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর সংস্থাটির কর্মকর্তারা অফিস বন্ধ করে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও ঋণের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে।
কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার বাসিন্দা কাউসার হোসেন বলেন, চলতি মাসের প্রথমদিকে আলো সংস্থার ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় যান। সেখানে তিনি হস্তশিল্পের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানান। পরে এলাকার নারীদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা নেওয়া হয়।
কাউসার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সংস্থার ম্যানেজার হাবিব ও ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় গিয়ে রোববার সঞ্চয়ের টাকা দেওয়ার পর সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা জানান। পরে রোববার নাজমুল হাসান এলে ঋণ পাওয়ার আশায় প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ওই দলের ১০ সদস্য মিলে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা সঞ্চয় দেন। সোমবার ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে তারা কাউকে পাননি।
আরেক গ্রাহক মাকসুদা বেগম বলেন, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে অফিসে এসে কাউকে পাওয়া যায়নি।
আলো সংস্থায় সম্প্রতি চাকরি নেওয়া অফিস সহায়ক মুক্তা আক্তার বলেন, রোববার বিকেল ৪টার দিকে অফিসের খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা তাকে মুঠোফোনে অফিস বন্ধ করে দিতে বলেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি অফিস বন্ধ করে দেন। সোমবার গ্রাহকেরা একের পর এক অফিসে এলেও সংস্থার কোনো কর্মকর্তা আসেননি। এ পরিস্থিতিতে তিনি নিজেও চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একজন মৌখিকভাবে তাকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।