বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। স্কুল ছুটি হওয়ার পর অনেকক্ষণ হয়ে গেছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও শিশুটির বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু সে ফিরছে না।
নিরাপত্তা শুধু নজরদারি নয়
শিশু কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে এবং কখন ফিরবে—এসব জানা দরকার। তবে তার চেয়েও জরুরি, কোনো বিপদে পড়লে সে যেন পরিবারের কাউকে বিষয়টি বলতে পারে।
তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট কথাবার্তায় ভরসার জায়গাটি তৈরি করা দরকার।
সন্তানের জন্য কিছুটা সময়
এর জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। একসঙ্গে খাওয়া, স্কুলের গল্প শোনা, হাঁটতে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা ঘরের কাজে তাকে সঙ্গে নেওয়াই হতে পারে কথা বলার সুযোগ।
সময় কাটানো মানেই প্রশ্ন করা নয়। মন দিয়ে শোনাও এর অংশ।
শিশু কিছু বললে সঙ্গে সঙ্গে বকা বা বিচার না করে আগে শোনা দরকার। পরিবারের প্রতিক্রিয়াই অনেক সময় ঠিক করে দেয়, সে পরেরবার নিজের কথা বলবে কি না।
নিয়ম থাকবে, চাপ নয়
শিশুর জন্য একটি সহজ রুটিন থাকা ভালো। কখন স্কুলে যাবে, পড়বে, খেলবে ও বাড়ি ফিরবে—এসব জানা থাকলে তার স্বাভাবিক চলাফেরাও বোঝা যায়।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেগুলো নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। অতিরিক্ত শাসন বা সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ শিশুকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
অবশ্য কোনো শিশু নিখোঁজ হলে পরিবারকে দায়ী করা যায় না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে পরিস্থিতি ভিন্ন। তবে পরিবারে কথা বলার পরিবেশ থাকলে অনেক বিষয় আগেই জানা সম্ভব।
জরুরি সময়ের প্রস্তুতি
সিসিটিভি থাকলে সেটি সচল রাখা এবং প্রয়োজনে শেষবার দেখা এলাকার ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ করা দরকার। শিশুর অবস্থান জানার কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তার নির্ভুলতা, নেটওয়ার্ক এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা উচিত।
নিরাপত্তার প্রথম ঠিকানা
শিশু নিখোঁজ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কিন্তু প্রস্তুতি শুরু হয় তারও আগে—পরিবারের ভেতর থেকে।
প্রতিদিন হয়তো বেশি সময় দেওয়া সম্ভব নয়। তবু দিনের কিছুটা সময় শুধু সন্তানের কথা শোনার জন্য রাখা যায়।
এতে সব ঝুঁকি দূর হবে না। কিন্তু শিশুর মনে একটি বিশ্বাস তৈরি হতে পারে—‘কিছু হলে আমি আমার পরিবারের কাছে বলতে পারব।’
শিশুর নিরাপত্তা শুধু সে কোথায় যাচ্ছে, তা জানার মধ্যে নয়। কোনো বিপদে পড়লে সে যেন জানে—ফিরে যাওয়ার মতো একটি জায়গা তার আছে।
লেখক: প্যারেন্টিং এক্সপার্ট ও কিডস টাইমের প্রতিষ্ঠাতা