ছবি: প্রতিনিধি
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়নে গত মে মাসে টিসিবির বরাদ্দে চাল থাকলেও দেওয়া হয়নি কোন সুফলভোগীকে। সুফলভোগীরা অন্য মালামাল পেলেও চাল পাননি। কিন্তু মালামাল বিতরণের সময় অ্যাপসে ৫ কেজি চাল পেয়েছেন বলে তথ্য এন্ট্রি করা হয়েছে। এই চাল ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির মোট সুফলভোগীর ১ হাজার ৫০ জন। এই ইউনিয়নে বর্তমানে অ্যাকটিভেটেড কার্ড আছে ১ হাজার। গত শনিবার কার্ডের বিপরীতে সুফলভোগিদের মাঝে চাল ছাড়া সকল পণ্য বিতরণ করা হয়। এখানে কাউকেই চাল দেওয়া হয়নি।
টিসিবির মে মাসের বরাদ্দের অনুমোদনপত্রে দেখা যায়, প্রত্যেক সুফলভোগী ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ টি গোসলের সাবান, ১টি কাপড় কাঁচার সাবান, হাফ কেজি কাপড় কাচার পাউডার সুফলভোগীদের মাঝে বরাদ্দ করা হবে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, মসুর ডাল ৬০ টাকা, চিনি ৭০ টাকা ও তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, গোসলের সাবান ৪৫ , কাপড় কাচার সাবান ২৩, কাপড় কাঁচার পাউডার ৬০। নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত বুধবার (১৭ মে) গিয়ে দেখাযায়, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ তালা বন্ধ রয়েছে। দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ বুধন রবিদাসকে এই কক্ষ খুলতে বললে সে কক্ষের তালা খুলে দেয় সেখানে ৫০ কেজি বস্তার সরকারী খাদ্য গুদামের সিলসহ ৪০ বস্তা চাল রাখা হয়েছে। বুধন রবিদাস এই চাল টিসিবির ডিলার তারেক রেখে গিয়েছে বলে জানায় এই সংবাদকর্মীদের।
কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবি সুফলভোগী জহুরুল বলেন, আমি টিসিবির পন্য নিতে সকাল ৮ টায় যায় দুপুর ১ টায় মালমাল পায়, কিন্তু ডিলার আমাকে কোন চাল দেয়নি বলছে কোন চাল নাই। সে চাল বাবদ আমার কাছ থেকে ১৫০ টাকা কম নিয়েছে প্যাকেজ মুল্য থেকে।
আরেকজন টিসিবির সুফলভোগী আরমান মাহমুহ, এবার টিসিবির মাল নিতে গেলে তারা আমাকে চাল, সাবান, কাপড় কাচার সাবান, কাপড় কাচার পাউডার এসব কিছুই দেয়নি। আমি পেয়েছি মসুর ডাল, তেল, চিনি তারা এ বাবদ আমার কাছ থেকে ৪৭০ টাকা নিয়েছে। চালের কথা জানতে চাইলে ডিলার বলে চাল আসেনি।
কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার হাজী ট্রেডার্স ও শফিক ট্রেডার্সের প্রোপাইটার তারেক বলেন, আমার টিসিবির পণ্য এখনো সবাইকে দেওয়ায় শেষ হয়নি। আর আমিতো এ্যাপস ছাড়া কোন মাল বিতরণ করিনী, ইউনিয়ন পরিষদে যেসব চাল আছে ওগুলো আমারি চাল। ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে নিরাপত্তার কারনে সেখানে রেখেছে ।
কুতুবপুর ইউনিয়নের টিসিবির ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, টিসিবির মাল যে ডিলার দেয় সে আমাকে কিছুই বলেনা। কখনও সিগনেচার নেয়না। সোজা কথা কখন কি করে আমি বিষয়ে কিছুই জানিনা।
কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রশাসক উপজেলা আইসিটি অফিসার ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম বলেন, টিসিবির চাল দেয়নি এটা ডিলারের কাজ এটা আমার বিষয় না। ইউনিয়ন পরিষদে চাল রাখা যাবে না এটা আমি ডিলারকে মৌখিকভাবে জানাইছি। তারপরেও সে যেহেতু চাল রেখেছে আগামী কালকের মাঝে যদি না নিয়ে যায়। তাহলে ইউএনও মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্হা নেওয়া হবে। চাল জব্দ ও ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করার জন্য সুপারিশ করবো।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রশাসককে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হলে বিধি মোতাবেক ব্যাবস্হা নেওয়া হবে।