
সৈয়দপুরে সেবার মান না থাকলেও অবাধে চলছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অধিকাংশরেই নেই নুন্যতম স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। জনবল, মান-সম্মত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম না থাকলেও এসব অবৈধভাবে চলে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রসূতি ও তাদের সন্তান সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালে প্রাণ হারান। এরপরেও এসব হাসপাতালের মালিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো সু-কৌশলে ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। মাঝে-মধ্যে এরকম ঘটনা প্রকাশ পেলেও এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। ফলে তাদের এসব কাজ-কারবার নির্বিঘেœই চলছে।
সরেজমিন এমনও লক্ষ্য করা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এমন লোকও রাখা হয়েছে যাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাতো নেই, অথচ, তারা এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ফরমায়েশ খাটার পাশাপাশি রোগীদের আভ্যর্থনা করা, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ, রিপোর্ট প্রদান ও রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় অর্থও সংগ্রহ করছেন আবার প্রতিষ্ঠানের রোগীর বেডে শুয়ে অলস সময়ও পার করছেন।
প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির একটি সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে এসব প্রতিষ্ঠান ৫০টিরও অধিক। তবে, অভিযোগ উঠেছে এসবের অধিকাংশই অবৈধভাবে চলে আসছে। সৈয়দপুরের এসবের মধ্যে কয়েকটিতে বেশ কিছুদিন আগেও সিজার করার পর প্রসূতি ও তাদের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তড়িঘরি করে এ্যাম্বুলেন্সে করে প্রসূতি ও তাদের সন্তানদের রংপুরে উন্নত চিকিৎসার নামে পাঠিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাছাড়া রোগ নির্ণয়ের অনেক পরীক্ষ-নিরীক্ষারও ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।
আবার এমন অভিযোগও রয়েছে, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার রিপোর্টে যে ডাক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে সেই স্বাক্ষরও রিপোর্টের খালি প্যাডে আগেই করে নেওয়া থাকে। আর স্থানীয় কতিপয় অসাধূ সংবাদকর্মীরাও এ সুযোগে এসবের মালিকদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরো অভিযোগ রয়েছে যে, এরকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য-বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠানো হলেও অজ্ঞাতকারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিজ্ঞমহল মন্তব্য করেন যে, এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডাক্তার, নার্স, রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো টেকনিশিয়ান নিয়োগ না দেওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভুল রিপোর্টসহ সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান না করায় রোগীরা সঠিক চিকিৎস সেবা থেকে বঞ্চিতো হচ্ছেই আবার অনেকেই ভুল চিকিৎসায় জীবনও হারাচ্ছেন।
তাই, দীর্ঘদিন থেকে সৈয়দপুরের এসব প্রতিষ্ঠানে এরকম অবস্থা বিরাজ করলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করতে কি ভুমিকা রাখছেন তা’ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের কাছে তথ্য রয়েছে, ওনার সাথে যোগাযোগ করুন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাসুন্নাহারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে জানান, সৈয়দপুরে যে কয়টার রেজিস্ট্রেশন রয়েছে সেগুলো মোটামুটি মান-সম্মত। আর যেগুলোর রেজিষ্ট্রেশন নেই তাদেরকে আমরা সতর্ক করেছি। তবে, এসময় তিনি বলেন, সৈয়দপুরে ৩৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১৭টি ক্লিনিক রয়েছে। আমাদের ইন্সপেকশনের কাজ চলমান।