সোমবার , ১০ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

নিজেদের স্বার্থ হাসিলে উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামকে ঢাল বানিয়েছে বিএনপি

শাহরিয়ার রিজবি
এপ্রিল ১০, ২০২৩ ৫:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদন ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক সংগঠন এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক ও সমীকরণ নতুন কিছু নয়। তবে ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সহিংস আন্দোলন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, গোয়েন্দা সূত্র এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে হেফাজতের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক অস্বীকার করলেও, আড়ালে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও ইন্ধন জুগিয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি মূলত নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে উগ্রবাদী এই সংগঠনটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সহিংসতাকে ‘শান্তিপূর্ণ’ আখ্যা ও বিক্ষোভের ডাক

২০২১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের তাণ্ডব ও সহিংসতার পরদিনই মাঠে নামে বিএনপি। ২৭শে মার্চ এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের ওপর দায় চাপিয়ে হেফাজতের বিক্ষোভকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে দাবি করেন। এর প্রতিবাদে ২৯ ও ৩০শে মার্চ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের চরম উগ্রতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‘শান্তিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি মূলত সেই সহিংসতাকেই রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

হেফাজতের হরতাল ও বিএনপির সংহতি

২৮শে মার্চ হেফাজত দেশব্যাপী হরতাল ডাকলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সরাসরি তাদের পাশে দাঁড়ান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন,

“হেফাজতের হরতাল ডাকার অধিকার আছে। আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

একই সুরে দলের আরেক নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন,

“সরকার রক্ত ঝরিয়েছে বলেই বিএনপি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। হেফাজত হরতাল দিয়েছে, আমরা বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানাবো।”

বিএনপি নেতাদের এসব বক্তব্য প্রমাণ করে যে, হেফাজতের হরতালে বিএনপির পরোক্ষ সংহতি ও পূর্ণ সমর্থন ছিল এবং তারা বিক্ষোভের আড়ালে হেফাজতের উগ্রতাকে আড়াল করতে চেয়েছিল।

দায় চাপানোর কৌশল ও ‘ক্র্যাকডাউন’ ইস্যু

সহিংসতার দায় এড়াতে বিএনপি শুরু থেকেই সরকারের ওপর উসকানির অভিযোগ আনার কৌশল নেয়। ৩০শে মার্চ মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, সরকারই উসকানি দিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যখন সহিংসতায় জড়িত উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনি ব্যবস্থা (ক্র্যাকডাউন) শুরু করে, বিএনপি সেটিকে ‘আলেমদের ওপর নির্যাতন’ এবং ‘রাজনৈতিক দমনপীড়ন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায়। ১৫ই এপ্রিল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল লকডাউনের সুযোগ নিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ তোলেন, যা ছিল মূলত হেফাজতের অপরাধীদের আড়াল করার এক চতুর প্রয়াস।

মামুনুল হকের মুক্তি ও আইনি সহায়তা

বিএনপির হেফাজত-প্রীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ১৯শে এপ্রিল, যখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ গ্রেপ্তারকৃত সব উগ্রবাদী নেতার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। শুধু বিবৃতিতেই ক্ষান্ত থাকেনি বিএনপি; দলটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা আদালতে মামুনুল হকের পক্ষে আইনি লড়াইয়েও অংশ নেন। ধর্মের লেবাসে যারা সরকারি অফিস, আদালত এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিল, তাদের পক্ষে বিএনপি মহাসচিবের এই সাফাই ও আইনি সহায়তা সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।

প্রকাশ্য দূরত্ব, গোপনে ‘নিবিড়’ যোগাযোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি চাপ এবং আন্তর্জাতিক মহলে (বিশেষ করে জো বাইডেন প্রশাসন ও পশ্চিমা বিশ্ব) ‘মৌলবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে প্রকাশ্যে কোনো জোট বা মঞ্চ তৈরি করেনি। তবে ভেতরে-ভেতরে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। বিশেষ করে প্রয়াত আমির আহমদ শফীর পর জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রাধান্য থাকায় এই যোগাযোগ আরও সহজ হয়। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর গোপন বৈঠকের গুঞ্জনও রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল, যদিও হেফাজত তা অস্বীকার করেছে।

ভাস্কর্য ইস্যুতে দ্বিমুখী অবস্থান

কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি হেফাজতকে সব ক্ষেত্রে অন্ধ সমর্থন দেয়নি। যেমন ভাস্কর্য ইস্যুতে হেফাজতের চরম অবস্থানের বিপরীতে বিএনপি নীরব ছিল। কারণ মুসলিম বিশ্বের উদাহরণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে খোদ জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য থাকায় দলটি এই ইস্যুতে হেফাজতের পাশে দাঁড়ানো যুক্তিযুক্ত মনে করেনি। অর্থাৎ, যেখানে নিজেদের স্বার্থ মিলেছে সেখানে হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছে, আর যেখানে আন্তর্জাতিক মহলে ইমেজ সংকটের ভয় ছিল, সেখানে দূরত্ব বজায় রেখেছে।

শূন্য রাজনীতির সুযোগ ও ক্ষমতা পাওয়ার তাড়না

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতো বিশ্লেষকদের মতে, দেশে রাজনৈতিক স্পেস বা শূন্যতা তৈরি হওয়ার কারণে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো রাজপথে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপি দীর্ঘকাল ক্ষমতার বাইরে থাকায় চরম হাতাশা থেকে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে এমন যেকোনো শক্তিকে কাজে লাগাতে চেয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলের ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে, বিএনপি মুখে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ ও ‘ন্যায়ের পক্ষে’ থাকার দাবি করলেও, নেপথ্যে তাদের লক্ষ্য ছিল হেফাজতের উগ্রতা ও ধর্মভিত্তিক প্রভাবকে পুঁজি করে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা। তবে উগ্রবাদের পিঠে সওয়ার হয়ে ক্ষমতার রাজনীতি করার এই ‘কৌশলী’ চাল শেষ পর্যন্ত দেশের সচেতন মহলে দলটিকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

শাহ রিয়ার রিজবি। ঢাকা ইনফো

শাহরিয়ার রিজবি একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, যিনি DhakaInfo24-এ কর্মরত। তিনি জাতীয়, রাজনৈতিক, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});