বগুড়ার শেরপুরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এক কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ৬টি গরু নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের কহিতকুল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে দুটি অন্তঃসত্ত্বা গাভী ছিল, যা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন দিশেহারা।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল ওয়াহাব জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু লালন-পালন করেই সংসার চালিয়ে আসছেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও গরুগুলোকে গোয়াল ঘরে রেখে তালাবদ্ধ করে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে চোরেরা পরিকল্পিতভাবে গোয়াল ঘরের দেয়াল ভেঙে এবং তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর গোয়ালে থাকা ৬টি গরু নিয়ে চম্পট দেয়। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে আব্দুল ওয়াহাব ও তার পরিবারের সদস্যরা গোয়াল ঘরের দেয়াল ভাঙা এবং গরুগুলো না দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আব্দুল ওয়াহাবের আরো জানান, চুরি হওয়া গরুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। একটি রাতেই তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সম্বল হারিয়ে তিনি এখন সর্বস্বান্ত।
আমি এই গরুগুলোর ওপর নির্ভর করেই সংসার চালাতাম। এখন আমার আর কিছুই রইল না। আমি প্রশাসনের কাছে শুধু আমার গরুগুলো ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছি। কৃষক আব্দুল ওয়াহাবের চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী ও খামারিরা আব্দুল ওয়াহাবের বাড়িতে ভিড় করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইদানীং বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির উৎপাত বেড়েছে। এ নিয়ে খামারি ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা রাতের টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কুশল/সাএ
