কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের আগেই ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর অপারেশন থিয়েটারে তাসমিয়া (৫) নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সে কুমারখালি উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সানপুকুড়িয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তাসমিয়ার বাম হাত ভেঙে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে হাতের অপারেশনের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। শিশুটির মা সীমা খাতুন জানান, তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রী। মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকায় অপারেশনের চুক্তি করা হয়। তবে অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপারেশনের আগেই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষুব্ধ জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবিতে অনড় অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা ও স্বজনরা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তাহেরুল আল আমিনকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনী, র্যাব ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। নিহত শিশুর মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে স্বজনরা অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সালাউদ্দিন/সাএ
