তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ও মানসম্মত ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে এই মেগা কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের সকল জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রদর্শিত হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মতিউর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেরিন সুলতানা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী ও নাসির উদ্দিন লালা। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু এবং বাসস প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক। এছাড়াও জেলা মহিলা দল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রদল নেতারা এই আয়োজনে অংশ নেন।
আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচী ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে এবার ক্রীড়াঙ্গনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনে মোট ৮টি ইভেন্ট স্থান পেয়েছে: ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সারা দেশ থেকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সারা দেশের মধ্যে সিলেট জেলা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী নিবন্ধিত হয়েছে।
পুরো দেশটিকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে (ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ) বিভক্ত করে এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। ২ মে উপজেলা পর্যায়ের দল গঠন প্রক্রিয়া শেষ করে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য জেলা পর্যায় থেকে প্রতিটি খেলোয়াড়কে জার্সি ও নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি ধাপে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ সনদ প্রদান করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরাদের জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক ক্যাম্প এবং বিকেএসপিতে ভর্তির বিশেষ সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচী বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক কমিটি তদারকি করছে। দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির এই শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের ক্রীড়ামোদী জনতা।