বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা যায় না, ফলে প্রয়োজনের তাগিদেই অনেকেই টিআইএন গ্রহণ করেন। তবে অনেকে শুধু বিভিন্ন সেবা নেওয়ার জন্য টিআইএন নিলেও নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই টিআইএন সংগ্রহ করা যায়।
এবার দেখা যাক, টিআইএন ছাড়া কোন কোন কাজ বা সেবা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। মোটামুটি প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিআইএন বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. চাকরিজীবী
সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
২. ব্যবসায়ী
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিআইএন লাগবে।
৩. জমি-ফ্ল্যাটের মালিক
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিআইএন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেওয়া যাবে না।
৪. গাড়ির মালিক
গাড়ির মালিকদের টিআইএন লাগবে। টিআইএন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন—এসব হবে না।
৫. পেশাজীবী
ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যেকোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিআইএন লাগবে।
৬. আমদানি-রপ্তানিকারক
যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।
৭. দরপত্রে অংশগ্রহণকারী
সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।
৮. ক্রেডিট কার্ডধারী
টিআইএন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিআইএন থাকতে হবে।
৯. অভিজাত ক্লাবের সদস্য
ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।
১০. ছোট-বড় ব্যবসায়ী
ছোট-বড় ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।
১১. নির্দিষ্ট কিছু সেবাগ্রহণকারী
বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিআইএন লাগবে। যেমন ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কোম্পানির পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।
১২. ঋণ গ্রহণকারী
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।
১৩. নির্বাচনে প্রার্থী
জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।
কুশল/সাএ