ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা আর তেলের বাজারের অস্থিরতায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে; মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
সোমবার (৪ মে) লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। মূলত ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বদলে এখন ডলারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলার ৫৩ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৫ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোনো নৌজাহাজে আঘাত লাগেনি।
এই উত্তজেনার প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বায়বিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের বাজার ধাক্কা খেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের বদলে মার্কিন ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।’
গত বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ফেড কর্মকর্তারা এখন ভিন্নমত পোষণ করছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তেলের দামের এই ধাক্কা ফেডকে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেবে। উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে দাম কমছে।
আজকের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। চীন, জাপান এবং যুক্তরাজ্যে সরকারি ছুটি থাকায় ওই দেশগুলোর বাজার আজ বন্ধ রয়েছে। বড় বাজারগুলো বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে লেনদেনের গতি ছিল ধীর, যা দামের ওপর বাড়তি প্রভাব ফেলেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে আজ রুপার দামও বড় ব্যবধানে কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩ ডলার ৪ সেন্টে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে।
সাধারণত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের এই বড় পরিবর্তন কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে। দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুতই দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিতে পারে।
সালাউদ্দিন/সাএ