ঠাকুরগাঁওয়ে বিএডিসির হাইব্রিড ভুট্টার জাতের প্রচার ও প্রসারের জন্য ক্রপ কাটিং এবং মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পূর্ব পাড়পূগী এলাকায় ধান, গম ও ভুট্টার উন্নততর বীজ উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বীজ উৎপাদন কেন্দ্র বিএডিসি ঠাকুরগাঁওয়ের আয়োজনে ভুট্টা ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
ভুট্টা ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (বীজ) আবির হোসেন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন রিন্টু, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক সেলিম হায়দার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাজেদুল ইসলাম, অধীক বীজের উপ পরিচালক মনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এ উপলক্ষে স্থানীয় কৃষক ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বিএডিসি হাইব্রিড-৩ জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন। প্রতি ৫০ শতক জমিতে এই জাতের ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১শ’ মণ। আমার পাঁচ বিঘা জমিতে প্রায় ৪শ’ মণের মতো ফলন হবে বলে আশা করছি। এতে খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা, আর বিক্রি করতে পারব ৩ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি লাভ থাকবে।
একই গ্রামের আরেক কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২৫ শতক জমিতে এই ভুট্টা চাষ করে ৪৫ মণ ফলন পেয়েছেন। তিনি প্রতি বস্তা ১ হাজার ৬৪০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় দ্বিগুণ লাভ করেছেন। আমিরুল বলেন, “অন্যান্য জাতের ভুট্টা যেখানে ৭০-৮০ মণ হয়, সেখানে বিএডিসির এই হাইব্রিড জাত ৯০ মণের উপরে ফলন দিচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৪৬ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে এবং খরিপ-২ মৌসুমে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। রবি মৌসুমে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন এবং খরিপ-২ মৌসুমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকেরা এখন অধিক ফলনশীল জাতের দিকে ঝুঁকছেন। বিএডিসির হাইব্রিড জাতের এই ফলন আগামীতে এ অঞ্চলে ভুট্টা চাষ আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।
উল্লেখ্য, বিএডিসি চলতি মৌসুম প্রথম বারের মত ৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা বীজ ভারত থেকে আমদানি করে স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে। স্বল্পমূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পাওয়ায় কৃষকরা খুশি। চলতি মৌসুমে ২শ’ টন বীজ বিক্রয় করলেও আগামীতে ২ হাজার টন বীজ বিক্রির আশা করছে ঠাকুরগাঁও বিএডিসি।