
ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি
উপসাগরীয় যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আলোচনায় অবগত একটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী সূত্র।
একই সঙ্গে দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে রাজি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, ‘আমরা খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করব। আমরা আলোচনায় খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা ইসরায়েল এই শান্তি আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করেনি এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও তাদের স্বীকৃতি দেয়নি।
হোয়াইট হাউস যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিক জবাব আশা করছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি দফা রয়েছে। এটি প্রস্তুত করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার সহযোগী জ্যারেড কুশনার, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে।
এর আগে ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভ্যান্স জানান, ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং তার আলোচক দল পাকিস্তান ত্যাগ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রথমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৩০ দিনের একটি আলোচনাপর্ব শুরু করবে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ওপর অন্তত ১২ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ চায়। শর্ত অনুযায়ী, ইরান এ নিয়ম ভঙ্গ করলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।