নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নে ধান কাটা উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার (৭মে) উপজেলার টোনা মাঠে কৃষক সমিতির খাশিয়াল ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো এ ধান কাটা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ধান কাটার কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়নের ১৫জন প্রান্তিক কৃষকের প্রায় ৩০০ শতক জমির পাকা ধান কেটে দেন কৃষক সমিতির কর্মীরা। এ কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের প্রায় ৫০জন নেতা-কর্মী। সম্মিলিত শ্রমদানের ফলে স্বল্প সময়ে কৃষকদের জমির ধান ঘরে তুলতে সহায়তা মিলবে বলে জানান আয়োজকরা।
কৃষক শিমুল মোল্যা বলেন, “শ্রম সংকট আর বাড়তি খরচের কারণে আমরা সময়মতো ধান কাটতে পারছি না। এমন সময়ে কৃষক সমিতির এই উদ্যোগ আমাদের জন্য বড় উপকার হইছে।”
আরেক কৃষক তৈয়েবুর রহমান বলেন, “কৃষক সমিতির উদ্যোগে আমার ধান কাটার ব্যাবস্থা হইছে। কিন্তু বাজারে সরকারি দামের চেয়ে দাম কম। সরকার যদি আমার থেকে সরাসরি ধান কিনতো তাহলে আমি সঠিক দাম পাতাম।”
কৃষক সমিতির নড়াইল জেলা কমিটির নেতা ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বলেন, “তৃতীয়বারের মতো এ ধান কাটা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সহযোগিতা করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। কৃষকের পাশে থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা নিয়মিত এমন সামাজিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্তমান সময়ে কৃষিতে শ্রম সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কৃষক সমিতির মতো সংগঠনের স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক ধান কাটা উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এতে প্রান্তিক কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন এবং উৎপাদন ব্যয়ও কমছে। কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম একসঙ্গে কাজ করলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সুলতান, জেলা নেতা প্রবীর রায়, ইউনিয়ন সভাপতি হারুন খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কুশল/সাএ