শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য বিরোধী দলের সমালোচনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, বিরোধী দল বিভিন্ন সমালোচনা করতেই পারে। তবে সমালোচনাটা যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল থাকলে সেই ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। রাষ্ট্র আরও কার্যকর ও কর্মক্ষম হয়।
সারা দেশের সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে শনিবার (৯ মে) দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতা অংশ নেবেন।
রিজভী বলেন, বিরোধী দল যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয় এবং মিথ্যা কথা বলে যায়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরেও অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন। যদি সেই ধরনের রাজনীতি হয়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। জনগণ যদি মনে করে বিরোধী দলের কথা ইতিবাচক, তাহলে জনগণই সেটার মূল্যায়ন করবে। জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত বিচারক। আগামী নির্বাচনে জনগণই বিবেচনা করবে সরকার সঠিক কাজ করেছে কী না।
প্রধানমন্ত্রী এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, গণতন্ত্রে সরকার তার কাজ করবে, আর বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কর্মসূচি নেওয়া হলে সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সমালোচনার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। কত জীবন চলে গেছে—শিশু, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক। গণতন্ত্র মানেই সরকার তার কাজ করবে আর বিরোধী দল তার সমালোচনা করবে। এটাই মূল এবং এটাই হওয়া উচিত।
মতবিনিময় সভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সারাদেশের জেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতারা সাংগঠনিক বিষয় এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই-তিন মাসে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডাক্তার আউয়াল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।