বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শুক্রবার রাত ২টার দিকে এক আকস্মিক শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই ঝড়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। ঝড়টিতে বাড়িঘর, গাছপালা এবং কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধুবাড়ি ঘুটুবটতলা এলাকায় ফয়সাল হোসেনের গোডাউন ঘরের টিনের চালটি ঝড়ের তীব্রতায় উড়ে গিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৈদ্যুতিক টাওয়ারের সঙ্গে ঝুলছে। গোডাউনের মালিক ফয়সাল হোসেন জানান, “টিনের চালটি উড়ে যাওয়ায় আমার প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এলাকার অনেকের ঘরের টিন উড়ে যাওয়ায় ঘরের ভেতরে রাখা খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্রও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় একটি বড় আম গাছ বৈদ্যুতিক তারের উপরে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে ঝড়ের সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। বৈদ্যুতিক লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল।
উপজেলার পাশে প্রাণিসম্পদ অফিসে, মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকাতেও বেশ কিছু বড় আম গাছ উপড়ে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়াও উপজেলার কুসুম্বি, শাহবন্দেগী, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর ও বিশাপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধান ঝড়ের বাতাসের কারণে মাটিতে হেলে পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এই অবস্থায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ধান কাটার খরচও বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু জানিয়েছেন, “আমরা ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কাজ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করা হবে।” তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ