বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব ‘ মা ‘ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। মা’দের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই দিনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বছরের মা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “মাতৃত্ব: ভালোবাসা ও যত্নে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা”। প্রতিপাদ্যে একজন মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, যত্ন ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে তার অপরিসীম ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সমাজের প্রতিটি স্তরে মায়েরা নীরবে পরিবারের ভিত্তি মজবুত করে চলেছেন। সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এদিকে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় কর্মরত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, সারাবছরই তারা মায়েদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও গর্ভবতী মায়েদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বিশেষভাবে দুটি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ভিজিডি (VGD) কর্মসূচি, যার আওতায় সুবিধাবঞ্চিত নারীরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দ্বিতীয়টি হলো মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয় এবং নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এতে করে মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেও একজন কর্মজীবী মা হিসেবে মনে করেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ার সুবিধা চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি। এতে কর্মজীবী মায়েরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ বিষয়ে তিনি সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা গেলে সমাজে টেকসই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।