যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত “তানযীমুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা”র এক সাবেক অফিস সহকারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগকারী পলি (ছদ্মনাম) জানান, তিনি ওই মাদ্রাসায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় কবির বিন সামাদ বিভিন্নভাবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
পলি দাবি করেন, “তিনি জানতেন আমি বিবাহিত। আমার স্বামী ও একটি সন্তান রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তিনি আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। একজন নারী হিসেবে আমি বুঝতে পেরেছি তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। এ কারণে আমার সংসারে অশান্তি তৈরি হয়েছিল, এমনকি ভাঙনের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে কবির বিন সামাদ বলেন, “আমি তাকে পছন্দ করতাম। আমি জানতাম তিনি তালাকপ্রাপ্ত। সে কারণেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”
তবে অভিযোগকারী নারীর দাবি, তিনি তখন বিবাহিত ছিলেন এবং বিষয়টি কবির বিন সামাদ জানতেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিকরগাছা উপজেলা আমির আব্দুল আলিম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। প্রাথমিকভাবে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার সময় বিষয়টি আমাদের জানা ছিল।”
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এটি এখনো প্রাথমিক বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের। কিন্তু জামায়াতের মতো একটি দলে এমন অভিযোগ যার বিরুদ্ধে আছে, তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন দিক থেকে বিবেচনা করছে বুঝে আসেনা। এমন চরিত্রের মানুষকে জামায়াতের মতো একটা সংগঠনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করা উচিত হবে না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা চাই, তার প্রার্থীতা পুনর্বিবেচনা করা হোক। তার থেকে এলাকায় আরও যোগ্য ও সৎ মানুষ আছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘যে ব্যক্তি নিজের প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে পারেননি, তিনি কীভাবে পুরো ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন?’
কুশল/সাএ