বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দশমাইল এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং সরকারি জায়গা দখলের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকেল ৫টায় গাড়িদহ ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল-এর পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই রাস্তা নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় জনবসতি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেন না থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলে বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগের গাড়িদহ ইউনিয়ন সভাপতি মোজাম্মেল হক মোজাম সরকারি জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করার পরেও অবৈধভাবে সেই জায়গাটি দখল করে রেখেছেন। তার এই অবৈধ দখলের কারণেই ড্রেন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মোজাম্মেল হকের টয়লেটের ময়লা পানি সরাসরি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীরা অপবিত্র হওয়ার পাশাপাশি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন মকবুল হোসেন, স্বপন আহমেদ, আশরাফ আলী ভোলা, মাসুদ রানা সবুজ, মেহেদী হাসান শিপলু, হাফেজ আব্দুল্লাহ, জহুরুল ইসলাম, কোরবান আলী প্রমুখ। মানববন্ধনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে সরকারি রাস্তা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে একটি পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা দ্রুত এই অসহনীয় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান বলেন, এমন ঘটনা হয়ে থাকলে অতিদ্রুত সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
কুশল/সাএ