বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রে বসবাসকারী সবাই বাঙালি নন। বাঙালি সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হলেও সাঁওতাল, ভূমিজ, ওঁরাও, মুণ্ডা, হাজং, চাকমা, মারমা সহ বহু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন নেতৃত্ব সবাইকে বাঙালি হওয়ার কথা বলেছিল, যার ফলস্বরূপ পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই অশান্তি এখনও বিরাজমান।
শনিবার সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তির সোপানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ফেডারেশন আয়োজিত ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে যারা বসবাস করে সবাই বাংলাদেশি। এটা একটি বাগানের মতো, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ একটি বাগানের মতো।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তার ছেলে তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সত্যিকারের নতুন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উদ্দেশে বলেন, পুরনো সংস্কৃতি ধরে রেখে আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আপনাদের অনেক সন্তান এখন সরকারের বড় বড় কর্মকর্তা। তাই আপনারাও আপনাদের ছেলেদের শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ার চেষ্টা করবেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সিপন চন্দ্র সিং সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পুলাশ কুমার সরকার, নিবিড় সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে পাহাড়ী ও সমতল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ৪০টি জেলার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা গেজেট বহির্ভূত সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্ত্বাকে গেজেট অন্তর্ভুক্ত করা, চাকরিতে ৫% কোটা, সংসদে কোটা অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন, প্রতি বছর বৈচিত্র্যের ঐক্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ৪ হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
কুশল/সাএ