চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংস্কার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
আজ সোমবার (১৮ মে) বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভুগছিল।
চট্টগ্রাম শহরে একটি স্থায়ী গ্রন্থাগার স্থাপন করার দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এবং সেই সাথে শহরে গ্রন্থাগার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত শহরের অব্যবহিত চারুকলা অনুষদকে গ্রন্থাগারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
চাকসু জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীবান্ধব লাইব্রেরি গড়ে তুলতে রিডিং কর্নার, জেনারেটর, ছাত্রীদের নামাজ কক্ষ, ওপেন স্টাডি স্পেস, নতুন চেয়ার-টেবিল, লাইট-ফ্যান সংযোজন, রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখা ও কপি শপ চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লাইব্রেরির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো জানায়, একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপনের দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসের সহায়তায় প্রায় ৭৯ লাখ টাকার একটি এসি প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন ভিসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং স্পনসর সংগ্রহের চেষ্টাও চলছে।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এসি সুবিধা থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চাকসুর উত্থাপিত দাবিসমূহ:
১. ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ শহরভিত্তিক লাইব্রেরি স্থাপন করতে হবে। স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত চারুকলা ইনস্টিটিউটকে অস্থায়ী লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে।