রাজবাড়ী পৌরসভা কর্তৃক অযৌক্তিকভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের দাবিতে রাজবাড়ী নাগরিক কমিটি জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের হাতে নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে রাজবাড়ী শহরের তীব্র নাগরিক ভোগান্তি এবং জনঅসন্তোষের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই অস্বাভাবিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর কর বৃদ্ধি করেছে। এটি বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের ওপর চরম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই রাজবাড়ী বাজারে পানি জমে যাওয়া, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার বিষয়েও স্মারকলিপিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ও দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে গুরুত্বপূর্ণ চক্ষু চিকিৎসকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বহিরাগত দালাল ও প্যাথলজি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অতি দ্রুত এখানে একটি ২৪ ঘণ্টা চালু ওয়াশ-রুম (টয়লেট) স্থাপন এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমাতে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, প্রান্তিক কৃষকেরা সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন, অথচ সিন্ডিকেট চক্র লাভবান হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন স্বাক্ষর করেন। এসময় অরুন কুমার সরকার, ক্রিস্টিনা মারিও রেখা সহ জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাজবাড়ীর সার্বিক জনস্বার্থে এই সমস্যাগুলোর দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, পৌরকর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান না নিলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট সমাধানেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুশল/সাএ