যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায় এবার চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতার চীন সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির আলোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ ও ২০ মে বেইজিং সফর করবেন পুতিন। সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পুতিন একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
শি জিনপিং তার বার্তায় বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির বছরে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও গভীর ও সুসংহত হয়েছে।
চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের সফর ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চীন এখন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সিআরইএ’র তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি কিনেছে। বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির এক-চতুর্থাংশের বেশি পণ্যই যাচ্ছে চীনে, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় মস্কোর জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পুতিন-শি বৈঠকে তাইওয়ান সংকট, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি গুরুত্ব পেতে পারে। এছাড়া আলোচনায় থাকতে পারে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পও। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধু চীন-রাশিয়া সম্পর্ক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক ব্লক তৈরির ইঙ্গিতও দিচ্ছে।