বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যদি বিরোধীদল সহযোগিতা করে টার্গেটের চেয়েও বেশি খাল খনন সম্ভব হবে, বলে উল্লেখ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ম্যানুফেস্টু টু এ্যাকশন: চ্যালেঞ্জেস এন্ড ওয়েফরোয়াড’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে তা উল্লেখ করেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব ও আন্দোলন ছিল। এই কর্মসূচিটি আজ থেকেই সেই কত বছর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এনেছিল, যেটি অনেক জনপ্রিয় কর্মসূচি ছিল; যার সঙ্গে আমাদের সামাজিক-প্রাকৃতিক এবং বাস্তবিক জীবন জড়িত। দখল করার কথা বলা হচ্ছে, এখন যদি খাল যদি খনন নাই করা হয়, তাহলে তো দখল হবে, সেখানে শিল্প কলকারখানার বর্জ্য, অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খাল খনন কর্মসূচিকে নতুন বিপ্লব ও জাগরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা আমাদের নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী, হিসেব-নিকেশ অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণের মধ্যে খাল খননের কাজ শুরু করেছি। আগামী ৫ বছরে সারা দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন অথবা পুনঃখনন করা হবে। এখন বিরোধীদলরা যদি সহযোগিতা করে আমরা টার্গেটের চেয়েও বেশি খাল খনন করা সম্ভব হবে। কেননা এই খাল খননের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির জড়িত।’
আগামী জুলাই থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাল খনন ছাড়াও পদ্মা ও তিস্তাকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে বর্ষায় অতিরিক্ত বন্যা হয়, যদি আমরা পদ্মা ব্যারেজ না করতে পারি, এক সময় দেখা যাবে, সেই অঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাবে। পদ্মা ও তিস্তাকে নিয়ে দৃশ্যমান পরিকল্পনা যত দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ দেওয়া যায়, সে নিয়ে আমরা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত দিয়েছি। জুন মাসে বাজেট পাশ হবে এবং জুলাই মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরু হবে। এই দুটো প্রজেক্টজেই বলা হয়, মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট; দুটোর সঙ্গে আমাদের দেশের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নতুন বাংলাদেশ গঠনের দিকে এগোচ্ছি, সেই কাজ তিন মাসের মধ্যেই দমশ্যমান।’
ছাত্র রাজনীতির প্রতি তরুণদের বিমুখতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতির প্রতি বিমুখতা দূর করতে হবে। ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাইমুন পারভেজ, সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
কুশল/সাএ