উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। হামলায় চারজন মার্কিন সেনা সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন হামলার জবাবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি দাবি করেন, বন্দর আব্বাসে মার্কিন অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করলেও জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সিরিক দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে আরেকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে আইআরজিসি। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স সেই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখান থেকে সিরিক দ্বীপে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল বলে তাদের দাবি।
তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং এর দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি।
এদিকে, এই নতুন উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির বিষয়ে বেশ আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আসলে আমেরিকার সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সত্যিই চুক্তি করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক সহযোগী দেশগুলোর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। একই সাথে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান নেওয়া মার্কিন বিরোধী দল ও নিজের শিবিরের সমালোচকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে একে ‘অনর্থক কিচিরমিচির’ বলে আখ্যা দেন।
ট্রাম্প সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে চলছে তা দেখতে থাকুন, শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতিটিকে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক চুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল।
কুশল/সাএ