বরগুনা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ নাথপট্টি খাল বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালজুড়ে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার কারণে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়ির বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপও খালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় দূষণ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি কার্যকরভাবে পরিষ্কার না করায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে স্তূপাকারে জমে আছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও কোথাও পানির ওপর ঘন আবর্জনার আস্তরণ তৈরি হয়েছে। স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তারও বেড়ে গেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। কিন্তু বরগুনা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নাথপট্টি খালের বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, শুধু খাল পরিষ্কার করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে কেউ খালে বর্জ্য ফেলতে না পারে সেজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ও সাংবাদিক মুশফিক আরিফ বলেন, “নাথপট্টি খাল একসময় বরগুনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ ছিল। বর্তমানে এটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী রোগের বিস্তারের সময়ে এমন একটি খাল অপরিষ্কার থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত খালটি পরিষ্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “নাথপট্টি খালের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি শুধু পরিবেশ দূষণের বিষয় নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যাও তীব্র আকার ধারণ করবে।”
তিনি পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিত উদ্যোগে খালটি উদ্ধার ও পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, “খালটি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা হয়। গত দুই-তিন দিনের প্রবল জোয়ারে বাইরের ময়লা-আবর্জনা খালে এসে জমেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত খালটি পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে সরাসরি খালে ফেলছেন। এতে খালের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের সচেতন করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
সচেতন মহলের অভিমত, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে নাথপট্টি খাল দ্রুত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।