গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রহস্যময় সেই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি এবার হাসপাতাল থেকেই উধাও হয়ে গেছেন। পরিচয় শনাক্তে সিআইডির বায়োমেট্রিক পরীক্ষাও ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিডি২৪লাইভকে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ রহমান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। চিকিৎসক ও নার্সদের পর্যবেক্ষণে তারা ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছিলেন। তবে বিকেলের পর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আরএমও ডা. আসিফ রহমান বলেন, “সকাল থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। নার্সদের কাছ থেকে জেনেছি, তাদের একজন জ্ঞান ফেরার পর খাবার চেয়েছিলেন। অপরজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি শুধু ‘ভালো লাগছে’ বলে জানান। তবে তারা কেউই নিজের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি। পরে বিকেলের দিকে তাদের আর ওয়ার্ডে পাওয়া যায়নি।”
বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বিডি২৪লাইভ’কে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে আমাদের কাউকে কিছু জানিয়ে যাননি।”
এর আগে একই দিন দুপুরে তাদের পরিচয় শনাক্তে রংপুর থেকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসে সিআইডির তিন সদস্যের একটি দল। তারা দুই ব্যক্তির আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে বায়োমেট্রিক পরীক্ষা চালান। কিন্তু জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে কোনো তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
রংপুর সিআইডির এসআই দীপেন্দ্রনাথ জানান, “বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম।”
উল্লেখ্য, গত রোববার (৩১ মে) সকাল ১০টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রেলওয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার ভোরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তাদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও সিআইডি তৎপরতা শুরু করলেও পরিচয় মেলার আগেই হাসপাতাল থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান তারা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।