যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতীয় ভাষণে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের রেজিমকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন, এবং দেশটির মধ্যে অরাজকতা ও ঘাতকতা থেকে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে হলে কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য।
কিন্তু ট্রাম্পের ভাষণ যুদ্ধের সমাপ্তি বা স্পষ্ট কৌশল প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “পরবর্তী দুই-তিন সপ্তাহে আমরা তাদের প্রাচীন যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।” এছাড়া ইরানের তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যদি দেশ শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন জনগণ এবং বৈশ্বিক বাজারের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্টক মার্কেটের অবস্থাও নাজুক। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করছে।
এছাড়া, ট্রাম্প যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য, যেমন ইরানের নিউক্লিয়ার হুমকি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের দীর্ঘায়ু এবং হঠাৎ উচ্চমাত্রার হুমকির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্সি এবং বিশ্ব অর্থনীতি দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
একই সময়ে একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিনদের মাত্র ৩৫% ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন, আর ইরান মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৪% ভোটার। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সম্ভাব্য স্থল সেনা অভিযানকে অগ্রাহ্য করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ তাঁর রাজনৈতিক সংকট দূর করতে বা যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রশমিত করতে যথেষ্ট হয়নি।
সূত্র:CNN.
