চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই আস্ত কন্টেইনার পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে পাচারকৃত কন্টেইনারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কন্টেইনার পাচারের এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা খতিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে।
বন্দরসূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর এলাকা থেকে বের করা হয়। তবে এদিন রাতেই নগরের হালিশহর এলাকা থেকে তা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেয় বন্দর কতৃপক্ষ। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম এটেয়ার অ্যান্ড কম্পোজিট লিমিটেডের নামে আসা পণ্যের চালানটি কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খালাসের প্রক্রিয়ায় ছিল। তবে জেএস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের নামে ভুয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেট পাস তৈরি করে কন্টেইনারটি বের করা হয়। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে ট্রেইলারে লোড করে সিপিএআর গেট ব্যবহার করে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কন্টেইনারটি বন্দর এলাকা ত্যাগ করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ধরা না পড়লেও পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগ সতর্ক হয়। এর পর গোয়েন্দা তৎপরতায় কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হালিশহর বারনী ঘাটসংলগ্ন শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশে একটি গ্যারেজ থেকে কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় কন্টেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রেইলারটি জব্দ করা হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়াত হামিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে মামলা রেকর্ড করতে কিছুটা সময় লাগার কথা উল্লেখ করে বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, কন্টেইনারটি ভিতরে কি মালামাল রয়েছে তার প্রতিটিরই বিবরণ লাগবে। এজন্য বন্দর এবং কাস্টমস যৌথভাবে কন্টেইনারটি খোলার পর প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি করে মামলা রেকর্ড করতে হবে।
কুশল/সাএ
