লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত সুনামগঞ্জের ১৩টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলার তিন উপজেলার এসব শোকাহত পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী ও সমবেদনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকাল থেকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিহতের স্বজনদের বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত উপহার ও নগদ অর্থ নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে সংসদ সদস্যরা শোকাতুর পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তারা বলেন, “ঘটনার খবর শোনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা প্রতিটি পরিবারের কাছে যাই এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকি।”
পরিবারগুলোর সাথে আলাপকালে সংসদ সদস্যরা মানবপাচারকারীদের প্রলোভন ও অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার ভয়াবহতা নিয়ে জনগণকে সতর্ক করেন। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১ কোটি মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকার জি-টু-জি (G2G) পদ্ধতিতে সরকারিভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তারা যুবসমাজকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেবেন না। সরকারিভাবে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে একটি ট্রলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন (পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যে ১৩ জন) অধিবাসী রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, ট্রলারের ভেতর অতিরিক্ত ভিড় ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তারা প্রাণ হারান। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, পাচারকারীদের নির্দেশে নিহতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এই অমানবিক ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ৯ জন চিহ্নিত মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দোষীদের আইনের আওতায় আনতে এবং পাচারকারী চক্রকে নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
