বগুড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে উপনির্বাচনকে ঘিরে। এ প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণসমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরাসরি সরকারের প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশকে বিভক্তির পথে নয়, ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
দিল্লীর কথায় দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না।” সোমবার (বিকেল) বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
“জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সংসদ” মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে।
তার ভাষায়, “৫ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করা মানে জনগণের সাথে প্রতারণা করা। ইতিহাস সাক্ষী—এভাবে কেউ টিকে থাকতে পারেনি।”
“সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে সরকার” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার গণভোট, গুম কমিশন সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগগুলো বাতিলের চেষ্টা করছে। এতে জনগণের আশা ভঙ্গ হচ্ছে। বিরোধী জোট হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে-বাইরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সংসদে কথা না শুনলে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।”
নির্বাচনী আহ্বান গণসমাবেশ থেকে তিনি বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
“বিএনপি নিজেদের প্রতিশ্রুতির সাথেই প্রতারণা করছে” সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি শুধু জনগণের রায়ই অস্বীকার করছে না, নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির সাথেও প্রতারণা করছে। সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা এখন পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মুখে এক কথা, কাজে আরেকটা—এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায় না। জাতি সব বুঝে গেছে।”
শিক্ষা ও অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনা সারজিস আলম সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে। একইসাথে ঋণ খেলাপীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ খেলাপী, সে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ঠিক করবে?”
প্রশাসনের নিরপেক্ষতার দাবি তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের “দাঁড়িপাল্লা” প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরও উপস্থিতি ও দ্বিতীয় সমাবেশ
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা, শিক্ষাবিদ ও সংগঠকরা।
পরে শহরের শহীদ খোকন পার্কে আরেকটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একই ধরনের বক্তব্য ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়।
সারসংক্ষেপ
এই গণসমাবেশে মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট— জাতীয় ঐক্যের আহ্বান গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা এবং উপনির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্য বগুড়ার উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ যে তীব্র হচ্ছে, এই সমাবেশ তারই একটি শক্ত ইঙ্গিত দিল।
