জনপ্রিয় অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি’ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। গানটির কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ও দৃশ্যায়নের কারণে বিষয়টি পৌঁছেছে ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) পর্যন্ত। বিষয়টি নিয়ে গড়িয়েছে সামাজিক এবং গণমাধ্যমিক চাপ, এবং আইনি প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল জাতীয় মহিলা কমিশন নোরাকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। কমিশন তার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তাকে শেষবারের মতো হাজির হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকর ওই বিশেষ শুনানিতে নোরার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গানের এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বিষয়বস্তু সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলে, এবং এর জন্য সঠিক জবাবদিহি প্রয়োজন।”
কমিশন জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৭ এপ্রিল। একই ইস্যুতে বিপাকে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্তও, যাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন বিতর্কিত গানটির গীতিকার রাকিব আলম, পরিচালক প্রেম, এবং প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনসের প্রতিনিধি গৌতম কেএম ও সুপ্রীত। শোনা গেছে, শুনানির এক পর্যায়ে বিজয়া রহাটকর গানের কথা ও সুর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্মাতাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
কমিশনের কঠোর অবস্থানের মুখে নির্মাতারা নতি স্বীকার করেছেন। তারা লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে এমন বিষয়বস্তু তৈরি করার সময় আরও সতর্ক থাকবেন।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “বিনোদন জগতে এমন ধরনের বিতর্ক সময় সময়ে দেখা যায়, কিন্তু কমিশনের পদক্ষেপ নোরা ফাতেহি ও নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।”
এর আগে, গানটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সমালোচকেরা গানটির কুরুচিপূর্ণ লিরিকস ও প্রলোভনমূলক দৃশ্যায়নের জন্য নোরাকে নিন্দা করেছেন। এই বিতর্ক শুধু নোরারই নয়, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ দল ও অন্যান্য অভিনেতাদের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
