সুনামগঞ্জের বিতর্কিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বদলির আদেশে জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি, এই বদলি কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ এক কর্মকর্তার হাত থেকে সুনামগঞ্জবাসীর মুক্তির নামান্তর।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক আফতাব উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা ডিসি ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগের খতিয়ান তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বিদায়ী জেলা প্রশাসকের সমালোচনা করে তাকে ‘মব সন্ত্রাসের গডফাদার’ এবং ‘ঘুষখোর কর্মকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান অভিযোগগুলো হলো অপ্রয়োজনীয় ২৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মূল হোতা ছিলেন তিনি। তার গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে দেখার হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরে অকাল বন্যায় ফসলহানি হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাধা এবং বিজয় র্যালিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে তিনি নিজেকে সংস্কৃতিবিরোধী ও উগ্রবাদী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। জেলার বালি, পাথর ও মাটির মহাল থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা, পছন্দের সাংবাদিকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকদের হয়রানি করার মাধ্যমে তিনি এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন।
বক্তারা এই ‘শাস্তিমূলক’ বদলির আদেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে (তারেক রহমান) আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, ড. ইলিয়াস মিয়া শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন “ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট”। উচ্চ আদালতে একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালিয়ে গেছেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি আল হেলাল তার বক্তব্যে বলেন, “ডিসি ইলিয়াস মিয়া বিদায় বেলায়ও যাদুকাটা নদীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে ডিসি ইলিয়াসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক কাজী জাহান, বাউল শাহজাহান সিরাজ, এলডিপি নেতা শেখ এমদাদুল হক, শিক্ষক নেতা শামসুল আলম রাসেল, বিএনপি নেতা আব্দুল করিম পাটান, সাংবাদিক হাসান চৌধুরী এবং জুলাইযোদ্ধা জহুর আলীসহ আরও অনেকে।
