
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রবাদে বিশ্বজুড়ে কনডমের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্বের শীর্ষ কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার ‘ক্যাপেক্স বিএইচডি’ তাদের পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাপেক্সের সিইও গোহ মিয়াহ কিয়াত জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কনডম তৈরির প্রধান উপকরণ সিনথেটিক রাবার, নাইট্রিল, লুব্রিকেন্ট এবং প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের দাম অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী। তাই এই বাড়তি খরচের বোঝা গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শিপিং খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে যেখানে মালয়েশিয়া থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় পণ্য পৌঁছাতে এক মাস সময় লাগত, এখন সেখানে দুই মাসের বেশি সময় লাগছে।
এর ফলে ডিউরেক্স ও ট্রোজানের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মজুতে টান পড়েছে। অনেক দেশে জরুরি চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কনডমভর্তি জাহাজগুলো মাঝ সমুদ্রে আটকা পড়ে আছে।
জানা যায়, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে কনডমের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও সরবরাহ সংকটে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির মতো বিদেশি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট করায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মজুতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
গোহ মিয়াহ কিয়াত জানান, বিশ্বজুড়ে কনডমের মজুত এখন আগের চেয়ে অনেক কম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বার্ষিক ৫০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাপেক্স কেবল বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নয়, বরং ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের সাহায্য কর্মসূচিরও প্রধান সরবরাহকারী।
