
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন এক নারী পর্যটক ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটক রাজ্যের কোডাগু জেলার কুট্টা এলাকায়। ওই সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট সংযোগও। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনযায়ী, ওই নারী সেখানকার একটি হোমস্টে-তে বা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ই এপ্রিল তিনি নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এই তথ্য ভারত সরকারকে জানানো হলে, তারা কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে সতর্ক করে, যার ফলস্বরূপ ১৯শে এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এঘটনায় কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘হোমস্টেটির লাইসেন্স আছে কি না এবং এটি এসওপি অনুসরণ করে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখব। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এছাড়া বিরাজপেটের বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার আইনি উপদেষ্টা এএস পোনান্না বলেছেন, ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি গোপনীয়তা চেয়েছেন।
কোডাগু জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এনএস বোসেরাজু বলেছেন, তিনি পুলিশকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহে ঘটে। ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমাদের বিষয়টি জানানোর পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করি।’ পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ওই নারী তিন দিনের জন্য হোমস্টে–তে থাকতে এসেছিলেন। ‘ঘটনার পরপরই তিনি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ অভিযোগের পরপরই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
কোডাগুর পুলিশ সুপার আর এন বিন্দু মণি জানান, এই ঘটনায় দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কুট্টা থানায় এক বিদেশি নাগরিকের ওপর যৌন নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় আদালতে হাজির করেছি, আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
ভুক্তভোগী বর্তমানে মাইসুরু শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কর্ণাটকের এমএলসি সিটি রবি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই ঘটনা ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য’ এবং এটি ভারতের ‘অতিথি দেবো ভব’ বা অতিথি ভগবানের সমান নীতির পরিপন্থী।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, বরং আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ও মূল্যবোধের ওপর একটি কলঙ্ক।’ তিনি দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, ‘এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) জারি করা হয়েছে। হোমস্টে পরিচালনাকারীদের অবশ্যই নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকতে হবে।’
ভ্রমণে ভারতে আসা আমেরিকান পর্যটকটি কুট্টা গ্রামের দেবী ভিলা হোমস্টে- তে থাকছিলেন। সেখানে থাকাকালীন, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বৃজেশ কুমার নামে এক রাঁধুনি একটি মিষ্টি পানীয়তে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাকে পান করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান হারানোর পর রাঁধুনিটি তাকে যৌন নির্যাতন করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণ দেখিয়ে পর্যটন বিভাগ হোমস্টেটি বন্ধ করে দিয়েছে, যেটির লাইসেন্স কেবল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইস্যু করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসন এও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে যে, জেলার সকল হোমস্টে-কে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধিমালা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে।
