সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিনভর ব্যাপক উত্থান-পতনের পর সপ্তাহ শেষে সামগ্রিকভাবে তেলের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ এবং মার্কিন তেলের দাম ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রতি ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচার প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৪৫ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বাড়লেও পরবর্তীতে কিছুটা হ্রাস পায়। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবর।
রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনার জন্য পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান তাদের শর্ত পূরণে একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা জাগিয়েছে।
শান্তি আলোচনার খবর বাজারে স্বস্তি দিলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে তা কার্যত অবরুদ্ধ। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। ইরানের কমান্ডোরা সম্প্রতি দুটি জাহাজ জব্দ করায় এই জলপথের ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
তেল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শান্তি আলোচনায় কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হলে এপ্রিলের শেষে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে তেলের দাম এই বছরের নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এদিকে চড়া তেলের দামের প্রভাবে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়ছে; যেমন প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পি এন্ড জি) জানিয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের প্রায় ১০০ কোটি ডলার মুনাফা কম হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
সালাউদ্দিন/সাএ
