হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের শাল্লায় আগাম বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) পূর্বাভাস ও তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে পড়েছে বোরো ধান কাটা কার্যক্রম। জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায়, কৃষকের গোলায় ধান তুলতে এবার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বেচ্ছাসেবক চেয়ে জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
বিগত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই আহ্বান জানানো হয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর শাল্লায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। হাওর এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল এই বোরো ধান। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার বা রিপারের মতো আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে সনাতন পদ্ধতিতে বা হাতে ধান কাটার বিকল্প নেই।
পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত বছরগুলোতে আধুনিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় স্থানীয় ও পরিযায়ী কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ আগাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরের পাকা ধান। যেকোনো সময় আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন।
এই সংকট নিরসনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, প্রকৃতি ও সময়ের সাথে লড়াই করে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে হবে। আমরা রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষক গ্রুপ ও সমবায় সমিতিসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ধান পেকে যাওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সংকটেরও শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা ধান কাটায় অংশ নিতে ইচ্ছুক, তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ হাওরের কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে, তবে স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারই এখন ধান রক্ষায় মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
