বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিটে কমিটিটিকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়াসহ সাতজন আইনজীবী এ রিট আবেদন দাখিল করেন।
রিটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং নির্ধারিত মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক একটি স্মারকের মাধ্যমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন।
আবেদনকারীদের দাবি, আইন অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া অ্যাডহক কমিটি গঠন করা যায় না। নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যর্থতা বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও আইনটির অপপ্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী।
রিটে আরও বলা হয়, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ক্রীড়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আবেদনকারীরা হাইকোর্টের কাছে রুল নিশি জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ এবং শুনানি চলাকালীন বিতর্কিত স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরি, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
