মার্কিন-ইসরাইল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে আক্রমণের পরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সৌদি আরব ও ওমানকে জানায় যে তারা আমিরাতকে সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে আবুধাবি ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই ছিল তেহরানের কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাতের ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বদলে বরং দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা সরাসরি সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে আমিরাতকে ধ্বংস করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন।
তবে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে চায় ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও আমিরাত উভয় দেশই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন সংঘাতে ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আমিরাতই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরান প্রায় দুই হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং এসব দেশ প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
এই যুদ্ধ ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের জোটকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইসরাইল আমিরাতকে লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত থেকে সরে যায়, তাহলে আঞ্চলিক ক্ষমতা হিসেবে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আমিরাত আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলার জন্য তারা প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করছে।
সূত্র: দ্যা মিডল ইস্ট আই
কুশল/সাএ