অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যবসায়ী রন হক শিকদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছিলেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দুবাইয়ের মেডিক্লিনিক পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রন হক শিকদারের মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এর আগে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালে রন হক শিকদার, তার ভাই রিক হক শিকদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে মামলাগুলোতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়।
দুদকের তদন্তে বলা হয়, রন ও রিক হক শিকদার তাদের নিয়ন্ত্রিত ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রন হক শিকদার প্রায় ৬০ লাখ ৯২ হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) এবং রিক হক শিকদার প্রায় ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ২১ কোটি টাকা) অবৈধভাবে বিদেশে ব্যয় করেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. মাহফুজুর রহমান, শাহ সৈয়দ আবদুল বারী, এম এ ওয়াদুদ, এ এস এম বুলবুল, চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, উজ্জ্বল কুমার পাল, মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, সুবীর চন্দ্র কর, মো. শামসুল আলম, এ এন এম আহসান হাবিব ও তারিকুল ইসলাম খান।