ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। ফেনীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. সিরাজউদ্দৌলাহ কুতুবী ১২৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে এ আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। ঘটনায় দায়ের হওয়া ২৪টি মামলার মধ্যে এটিই প্রথম কোনো মামলা, যার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ মোট ১২৪ জন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, আসামি কারা তা মুখ্য বিষয় নয়; ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে ফেনীবাসী আশা করছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন টমটম চালক মো. সবুজ। এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ আগস্ট নিহতের ভাই মো. ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শুরুতে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ৬৫ জনের সঙ্গে নতুন করে শনাক্ত ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এরপর ২২ ডিসেম্বর পলাতক থাকায় নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ৭১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ পর্যন্ত মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জন এবং সন্দেহভাজন ৩৯ জনসহ মোট ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৭ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মহিপালের ওই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ফেনী মডেল থানায় মোট ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলা। দায়ের হওয়া ৮টি হত্যা মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩টির চার্জশিট জমা পড়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া আরেকটি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল-এর নামও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ সুবিচার প্রত্যাশা করছেন।
কুশল/সাএ