বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় রোগযন্ত্রণা, অভাব-অনটন ও সন্তানদের চরম অবহেলায় অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুল হামিদ (৮০) নামের এক বয়োবৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে নিহতের নিজ বসতবাড়ির পেছন থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের মৃত তরিফ উল্লা সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরেই ছিলেন ওই বৃদ্ধ। রাতের কোনো এক সময় তিনি সবার অগোচরে বাড়ির পেছনে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছের ডালের সঙ্গে সুতার রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিবেশী এক নারী ওই বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গাছে মরদেহটি ঝুলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং বৃদ্ধকে মৃত অবস্থায় ঝুলতে দেখে দ্রুত শেরপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়রা বলেন, আব্দুল হামিদের স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মেয়েরা বিবাহিত এবং ছেলেরা কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন।
বাড়িতে তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। দীর্ঘদিন ধরে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না এবং নানা রকম বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অভাব-অনটনের সংসার হলেও ঢাকায় অবস্থানরত ছেলেরা তার কোনো খোঁজ খবর নিতেন না বা ঠিকমতো দেখভাল করতেন না। একাকিত্ব, স্বজনদের অবহেলা ও রোগ যন্ত্রণায় ওই বৃদ্ধ সব সময় চরম হতাশাগ্রস্ত থাকতেন। এই তীব্র হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোসলেম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, বৃদ্ধের আত্মহত্যার এই ঘটনায় থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।